ইন্টারনেটের খরচ কমছে, সুফল মিলবে গ্রাহক পর্যায়ে: জানালেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রাপথে দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য ইন্টারনেটের খরচ কমানোর এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি জানিয়েছেন, সরকার ইন্টারনেট সেবা আরও সাশ্রয়ী করতে পদক্ষেপ নিয়েছে, যার সরাসরি সুবিধা পাবেন সাধারণ গ্রাহকরা।
শনিবার (১৭ মে) বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এই সুখবর দেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ইন্টারনেট অবকাঠামোর দুটি প্রধান স্তর – আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এবং এনটিটিএন (ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানো হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, ইন্টারনেটের দাম কমানোর পাশাপাশি এটিকে কীভাবে আরও সহজলভ্য এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার-উপযোগী করা যায়, সেদিকে জোর দিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষি এবং জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এর ব্যবহার এখনও অনেক সীমিত। এই পিছিয়ে পড়া খাতগুলোতে ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
দুর্যোগকালীন ইন্টারনেট সেবার চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে আসে উপদেষ্টার বক্তব্যে। তিনি উল্লেখ করেন, বন্যা বা ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রায়শই মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হয়। প্রকৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, দুর্যোগকালীন সময়েও যেন টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেই ব্যবস্থা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার গুরুত্ব তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ এক ঐতিহাসিক ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি স্মরণ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে দেওয়ায় কী ঘটেছিল তা প্রথমে জানা সম্ভব হয়নি। ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে আসার পরই সেখানকার ভয়াবহ গণহত্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। এই ঘটনা ইন্টারনেটের তাৎপর্যকে নতুন করে সামনে এনেছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন।
প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনের জন্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপদেষ্টা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক দেশীয় উদ্ভাবক দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবনের জন্ম দিচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ থ্রিজি, ফোরজি বা ফাইভজি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিংবা নতুন কোনো আবিষ্কারে কতটা অবদান রাখছে, তা একটি প্রশ্নবোধক বিষয়। এই খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ ও সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ঘোষণা দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় একটি ইতিবাচক বার্তা। ইন্টারনেটের মূল্য হ্রাস সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও সহজ করবে এবং শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে এর ব্যবহার বৃদ্ধি করবে। একই সাথে, দুর্যোগকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তরুণদের সম্পৃক্ত করার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


No comments: