test

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় উদ্যোগ: ১০ হাজার ৫০৬টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় উদ্যোগ: ১০ হাজার ৫০৬টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার 

**১৯ মে ২০২৫, ঢাকা:** 



অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ১০ হাজার ৫০৬টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল। 

৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সরকারের আমলে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধাপে ধাপে এসব মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। মামলার নম্বর উল্লেখ করে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৪৯৪ ধারার আওতায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলাগুলো প্রত্যাহার করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। 

মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ দুটি কমিটি গঠন করেছে: একটি জেলা পর্যায়ে এবং অন্যটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে। 

জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। সদস্যসচিব অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকার জন্য পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার) ও পাবলিক প্রসিকিউটর (মহানগর এলাকার মামলাগুলোর জন্য মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর)। এই কমিটি কোনো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা হয়রানির জন্য করা হয়েছে বলে মনে করলে সেটি প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমিটির সুপারিশ, এজাহার, অভিযোগপত্রসহ আবেদন পাওয়ার ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্যসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। 

ব্যক্তি পর্যায়েও মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। এসব আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অথবা আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর বরাবর জমা দেওয়া যায়। ব্যক্তিগত আবেদনগুলো প্রথমে যাচাই-বাছাই করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকা তৈরি করে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি) আসিফ নজুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে তালিকাটি অনুমোদনের পর তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফেরত আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে চূড়ান্ত চিঠি পাঠানো হয়। 

মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটির সভাপতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সদস্যসচিব জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব। এছাড়াও কয়েকজন সদস্য এই কমিটিতে রয়েছেন। এই কমিটি জেলা কমিটির সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রত্যাহারযোগ্য মামলা চিহ্নিত করে এবং প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করে। 

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে এই প্রত্যাহারের সুযোগ প্রযোজ্য হবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান জানিয়েছেন, নিরপরাধ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অনর্থক হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গৃহীত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

মোঃ ইলিয়াছ, সময় নিউজ আপডেট।

No comments:

Powered by Blogger.